যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত গাড়ির বাজারে ২০২৬ সালে দাম ২ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে অটোমোবাইল তথ্য ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান কক্স অটোমোটিভ। প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, গত কয়েক বছরের উত্থান-পতনের অস্থিতিশীল ধারা কাটিয়ে চলতি বছর স্থিতিশীল মূল্যবৃদ্ধির ধারায় ফিরবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত গাড়ির বাজার। খবর সিএনবিসি।
কক্স অটোমোটিভ গত বৃহস্পতিবার একটি পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ম্যানহেইম ইউজড ভেহিকল ভ্যালু ইনডেক্স অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ ব্যবহৃত গাড়ির পাইকারি দাম ২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পাইকারি নিলামে বিক্রি হওয়া ব্যবহৃত গাড়ির দামের গতিপ্রকৃতি মূল্যায়নে সূচকটি ব্যবহার করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরের চরম অস্থিরতার তুলনায় ২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি বেশ স্থিতিশীল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ব্যবহৃত গাড়ির দাম বেড়েছিল দশমিক ৪ শতাংশ। অথচ এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালে দাম যথাক্রমে ১৫ ও ৭ শতাংশ কমেছিল। মূলত করোনা মহামারীর প্রভাবে ২০২০ ও ২০২১ সালে ব্যবহৃত গাড়ির বাজারে দামের অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। ওই সময় দাম বেড়েছিল যথাক্রমে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ ও ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ। সেই তুলনায় চলতি বছরের পূর্বাভাস বাজার স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কক্স অটোমোটিভের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান অর্থনীতিবিদ জেরেমি রব এক বিবৃতিতে বলেন, ‘২০২৬ সালে পদার্পণের সঙ্গে সঙ্গে কিছু ইতিবাচক সূচক দেখা যাচ্ছে। নতুন ও ব্যবহৃত গাড়ি কেনার জন্য ঋণের সুদহার গত এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এছাড়া গ্রাহকরা শিগগিরই তাদের ট্যাক্স রিফান্ড হাতে পাবেন। এসব বিবেচনায় নিয়ে আমরা আশা করছি বছরের শুরুতেই গাড়ির বাজারে শক্তিশালী চাহিদা তৈরি হবে।’
কক্স অটোমোটিভের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ব্যবহৃত গাড়ির সামগ্রিক বিক্রি দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৩ কোটি ৮৩ লাখে নামতে পারে। এর মধ্যে খুচরা পর্যায়ে ব্যবহৃত গাড়ি বিক্রি হতে পারে ২ কোটি ৩ লাখ ইউনিট, যা গত বছরের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ কম। তবে বিক্রি কিছুটা কমলেও দামের স্থিতিশীলতা ও ঋণের সহজলভ্যতা বাজারকে চাঙ্গা রাখবে।